বাবর |হুমায়ূন|কামরান |কামরান ইতিহাসের আরেক বিশ্বাসঘাতক |

 


কামরান 

মুঘল সম্রাট বাবরের সন্তান কামরান। সম্রাট হুমায়ুনের সৎ ভাই। বাবর মৃত্যুর পূর্বে পুত্র হুমায়ুন কে তার অপর তিন পুত্র আসকারী, কামরান আর হিন্দালের সাথে ভালো ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। বাবার উপদেশ হুমায়ুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করা সত্ত্বেও নিজ বৈমাত্রেয় কারো কারো কাছ থেকে হুমায়ুন বার বার এবং কখনও কখনও ভয়ানক বিশ্বাসঘাতকতা ও বৈরিতার শিকার  হয়েছেন। বিশেষ করে কামরানের কাছ থেকে কামরান হুমায়ুন কে উৎখাত করতে বেশ কয়েকবার বিদ্রোহ করেছেন। 


বেশ কয়েকবার ক্ষমা করার পরেও তার চরিত্রে পরিবর্তন না এবং তার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কাজ কর্ম বন্ধ না হলে হুমায়ুন অনেকটা বাধ্য হয়েই কামরান কে শাস্তি দেন। তার সে শাস্তি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, নৃশংস ও ভয়ানকও বটে। 


সেটা ছিল ১৫৫২ সালের শেষের দিকের ঘটনা। কামরানকে শাসনকর্তা আদাম গাক্কার বন্দী করে হুমায়ুনের দরবারে পাঠালে দীর্ঘদিন পরে দুই ভাইয়ের দেখা হয়। কামরান এর আগেও বন্দী হয়ে হুমায়ুনের দরবারে আনীত হয়, আর হুমায়ুন প্রতিবারই তাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। দরবারের অভিজাতবর্গ ও ধর্মীয় আলেমদের পরামর্শে হুমায়ুন উপলব্ধি করেন যে, কামরানকে আবার ক্ষমা করা হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। 

অবশেষে বহু অনিচ্ছা সত্ত্বেও হুমায়ুন কামরানের জন্য কঠোর শাস্তির নির্দেশ দেন। সে সময়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিদ্রোহী রাজপুত্রকে ক্ষমতা ও রাজনীতির পথ থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কামরানকে অন্ধ করে দেওয়া হয়। এই শাস্তি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নির্মম,  কিন্তু রাষ্ট্ররক্ষার স্বার্থে হুমায়ুন নিজেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেন। 

অন্ধ হওয়ার পর কামরানকে মক্কায় প্রেরণ করা হয়। সেখানেই তিনি রাজনীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই মক্কায় তার মৃত্যু হয়। একসময় তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের স্বপ্ন দেখেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি ইতিহাসের এক করুণ পরিণতির প্রতীক হয়ে থাকেন।

কামরানের জীবন ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও আনুগত্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি ক্ষমতার মোহে নিজের সর্বনাশ নিজেই ডেকে এনেছিলেন। অন্যদিকে, হুমায়ুনের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, একজন সম্রাটের জন্য ব্যক্তিগত অনূভুতির উর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় দায়িত্ব।                                                               

** আপনার জন্য আরও থাকছে


    

                             

No comments

Powered by Blogger.